
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার: বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মাসিক মজুরি ২৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণের দাবিতে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন (NGWF)-এর উদ্যোগে আজ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শ্রমিক মজুরি র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
র্যালিতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম। এ সময় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সংহতি বক্তব্য রাখেন ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (IBC) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন।
র্যালিতে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৩ শতাংশ আসে এই শিল্প থেকে। অথচ এই শিল্পের শ্রমিকরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম মজুরি পান।

বক্তারা উল্লেখ করেন, সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। গত তিন বছরে চাল, ডাল, বাড়িভাড়া, যাতায়াত ভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করা হয়নি। অন্যদিকে, পে-স্কেল ঘোষণার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি পুনর্নির্ধারণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩৯ ধারা অনুযায়ী আগে প্রতি পাঁচ বছর পরপর নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিধান ছিল। ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনে এই সময়সীমা তিন বছর করা হয়েছে। সে অনুযায়ী গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন অত্যন্ত জরুরি।
তারা বলেন, বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাতের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যায্য মজুরি শুধু শ্রমিকের অধিকার নয়, বরং শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, উৎপাদনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

র্যালি থেকে বক্তারা অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ২৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণের দাবি জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, বায়ার এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের প্রতি আহ্বান জানান, পোশাকের ক্রয়মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয়ের পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। কম ক্রয়মূল্য যেন শ্রমিকদের মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত করার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়েও সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
র্যালি থেকে বাংলাদেশের সকল বায়ার, ব্র্যান্ড এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মাসিক মজুরি ২৬০ মার্কিন ডলার কার্যকর করার দাবির প্রতি সমর্থন জানানো এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন (NGWF)
৩০ অক্টোবর ২০২৬
